Inside Out Movie Review

[Mild Spoiler Ahead for the movie Inside Out]

Inside Out মুভিটা দেখে আসার পর Afreen Tanzila Sharna এর সাথে কথা হচ্ছিলো। আলোচনাটা এত সুন্দর হচ্ছিলো যে মনে হলো – কোথাও লিখে রাখি, আড্ডার স্টাইলে। সেখান থেকেই এই লেখাটার জন্ম। রচনাকালঃ ২০১৫

************************************************************

মাসুমঃ Inside Out এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো কীভাবে?

আফরিনঃ আমি এনিমেটেড ম্যুভির পেছনে ছুটি। একনিষ্ঠ ভক্ত বলতে পারো। আমার ফ্রেন্ড বা কাজিনরাও নতুন ট্রেইলার পেলেই লিংক দিয়ে রাখে। পিক্সার একেবারে প্রথমে ট্রেইলার ছাড়তেই তাই পেয়েগেছি Inside Out-কে। থিম দেখেই দেখতে ইচ্ছা করছিলো। আর দেখতে যাওয়ার সময় কোনো এক্সপেকটেশন নিয়ে যাইনি বলেই বিশাল ধাক্কা খেয়েছি দেখার পর। তোমার আগ্রহ এলো কোত্থেকে?

মাসুমঃ পুরাই কাকতালীয়ভাবে! এন্ড্রয়েডে একটা অ্যাপ আছে, ওখানে দেখতে গিয়েছিলাম, আশেপাশের থিয়েটয়ারগুলোতে Spy এর শিডিউল কয়টায়। মুভির লিস্টে দেখি রটেন টোমাটোজে ৯৮% ফ্রেশ একটা এনিমেটেড মুভি আছে। এনিমেশনের এমন রেটিং কতদিন দেখিনি। ঠিক করলাম, দুটোই দেখবো। ডিজনী আর পিক্সার আবার একসাথে এলো ইনসাইড আউটে, দেখতেই হয়।

আফরিনঃ হুম, পিক্সারের বাকি ম্যুভিগুলোর মতোই ক্রিয়েটিভ পার্ট ভীষণ ব্যতিক্রমী, থট প্রভোকিং আর নাড়া-লাগানো! পিক্সার ব্রেইনচাইল্ড হিসেবে একটা ফর্মূলায় ফেলে দেয়া যায়। কিন্তু তারপর-ও কোনোভাবেই কোনো অভিযোগ ওঠে না। আমার কাছে পারফেকশনের দিক থেকে ম্যুভিটা দশে নয়!

মাসুমঃ শুরুতে ৭/৮ মিনিটের একটা আলাদা শর্ট ফিল্ম ছিলো, ওটা দেখেছিলে না?

আফরিনঃ হু, Lava অসাধারণ লেগেছে! এ রকম পিক্সারের আরো অনন্যসাধারণ কিছু শর্টফিল্ম আছে। না দেখা থাকলে সবগুলা দেখে ফেলো। Worth watching!

মাসুমঃ আসলেই! আর নারী আগ্নেয়গিরির গলাটা কিন্তু আসল ফিল্ম Inside Out এর প্রোটাগনিস্টেরই দেয়া। কী রোমান্টিক ছোটো কাহিনীটা! ওটার শেষে অনেকেরই মনের কানেএকটা কথা বেজে উঠেছিলো হয়তো – Only 7 minutes, and a muchbetter love story than twilight. যাই হোক, চলো Inside Out নিয়ে কথা শুরু করি। শুরুর দিকে কিছু বলো।

আফরিনঃ “Meet the little voices inside your head.”- ছিল ম্যুভিটার ট্যাগলাইন। আমাদের ভেতরের অনুভূতিগুলো রক্ত-মাংশের একেকটা চরিত্র হলে আর আমাদের ঠিক সামনেই তাদের দাঁড় করিয়ে দিলে বিষয়টা ক্যামন হতো সেটার একটা ডিমনস্ট্রেশন হচ্ছে ইন্সাইড আউট। মিনেসোটায় জন্ম নেয় ছোট্ট রাইলি আর তাঁর জন্মের পর চোখ খুলে প্রথম মা-বাবাকে দেখার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ম্যুভিটা। মানুষের মস্তিষ্কের ভেতরের কাজকর্মগুলো খুব সুন্দর কিছু মেটাফোর দিয়ে দেখানো হয়েছে ম্যুভিটায়। রাইলির জন্মের পর তার মাথায় পাঁচটা মৌলিক অনুভূতি জন্ম নেয়। Joy, Sadness, Fear, Disgust আর Anger. আনন্দ, দুঃখ, ভয়, বিরক্তি আর রাগ। এরা রাইলির মাথার হেডকোয়ার্টারে বসে একেকজন একেকসময়ে কন্ট্রোলরুমের কন্ট্রোল নেয়।

“We can’t focus on what’s going wrong. There’s always a way to turn things around.” – Joy 

জন্মের পর রাইলির মাথার ভেতর প্রথম জন্ম নেয় ‘Joy’. এটা খুবই বোধগম্য, কারণ জীবনের শুরুটা হয় তো আনন্দ দিয়েই। আবছা শোনা মায়ের আদুরে গলার গান অথবা গমগমে গলার বাবাকে প্রথম দেখা! নতুন একটা পৃথিবী আর সেই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালবাসার দু’জন মানুষ যারা দুর্গের মতো সব ঝুট-ঝামেলা-দুঃখ থেকে আমাদের দেয়াল দিয়ে রাখেন। দেয়ালের ভেতরে আনন্দ ছাড়া আর কেউ প্রবেশাধিকার পায় না। ঝলমলে আভা, স্বভাবগত উচ্ছাস আর আলো নিয়ে রাইলির ভেতর ‘আনন্দ’ থাকে মধ্যমণি হয়ে। বাকি বন্ধুদের আশা আর আলোর গল্প শোনায় সে। ভীষণ এনার্জেটিক ‘জয়’ রাইলিকে আত্মবিশ্বাস দেয়। অহং দেয়। যেকোন কিছু অর্জন করার ক্ষমতা দেয়। রাইলির সিস্টেমে কোন ঝামেলা হলে সব্বাইকে সামলে নিয়ে পথ দেখায় দায়িত্বশীল জয়। যেকোন ঝড়-তুফানে রাইলির টলমলে নৌকার হাল ধরে বসে জয়। এতোকিছুর পর-ও জয়ের মধ্যেও আছে দুর্বলতা। সে সেটা জানে না। সে ভাবে সে নিজেই রাইলিকে বাঁচিয়ে দেবে সবকিছু থেকে তার সুখস্মৃতি দিয়ে। কিন্তু প্রগলভ হয়েও আমরা অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নেই। জয়ের মধ্যেও একসময় বোধোদয় হয় যে সেই একমাত্র কাণ্ডারি না। তার-ও দুঃখের হাত ধরতে হয় পরিস্থিতির প্রয়োজনে।

মাসুমঃ হু। এবার একটু behind the scene-এ যাই। Joy চরিত্রের ভয়েস এর কথা আসে প্রথমে; Amy Poehler – Parks and Recreation (P&R) সিরিজের Leslie Knope. রেটিং দেখে তো বটেই, এমি পোয়েলারের নামটা যেন সিদ্ধান্তের দৃঢ়তায় শেষ পেরেক ঠুকে দিলো। সাথে সাথে ঠিক করলাম, এটা তো দেখা লাগবেই। আর সে মোটেও ডিজেপয়েন্ট করেনি। P and R এর লেসলি নৌপ চরিত্রটা থেকেই এমি’র ভয়েসের কাজ নিয়ে আমি বেজায় সন্তুষ্ট। এখানেও তার ভয়েসটা মারাত্মক কমিক ইফেক্ট নিয়ে এসেছিলো হিউমারের সীনগুলোতে। Joy এর প্রথম মুহূর্তগুলো বেশ স্বর্গীয় ছিলো। চরিত্রের শরীরে একটা গ্লো ইফেক্ট ছিলো, দেখেছিলে? সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম জিনিস, সাবকনশাসে একটা থিম রেডি করে দেয় কিন্তু। যাই হোক, Joy এর প্রায় সাথে সাথেই এলো Sadness.

আফরিনঃ হুম, গগনবিদারী কান্না নিয়ে এলো Sadness। কষ্টে নীল হয়ে থাকা ভীষণ অভিমানী মোটাসোটা মায়াবী স্যাডনেস।

“I am too sad to walk.” – Sadness

স্যাডনেসকে অন্য কেউ বোঝে না তেমন। তারা ভাবে স্যাডনেস খালি নাকি-কান্না ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না রাইলিকে। স্যাডনেসের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সবার চেয়ে বেশি। সে-ও চায় রাইলিকে খুশি রাখতে। সে চায় আশাবাদী হতে। কিন্তু তার চরিত্র থেকে বের হয়ে সে জয়ের মতো উচ্ছল হতে পারে না। সাহায্য করতে এসেও তাই সে ঝামেলাই বাঁধিয়ে ফেলে। সবাই চায় সে রাইলির মেমোরি ব্যাংক থেকে দূরে থাকুক। কিছু সঙ্গত কারনেই স্যাডনেস আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র।

মাসুমঃ শুরুর দিকে Joy আর Sadness কে যখন দেখালো, আমি ‘ওহ শিট’ বলে উঠেছিলাম। বুঝতে পারছিলাম, সামনে খুব খারাপ কিছু আসতে যাচ্ছে। শুরুর কয়েক মিনিটে ধারণা করছিলাম, এটা হরর মুভিও হতে পারে শেষ পর্যন্ত। এটা বুঝতে পারছিলামনা, মেয়েটার কততম বয়সে গিয়ে মূল কাহিনী শুরু হবে। পরে যখন ১১ তে গিয়ে থামলো, ভয়টা কাটলো। যাই হোক, বাকি ৩টা মেজর ইমোশন নিয়ে বলো।

আফরিনঃ রাইলির ভেতরের গার্ডিয়ান হচ্ছে Fear।

“But I’ll have you know I’m not scared of everything.”- Fear

সে সবকিছু থেকে রাইলিকে বাঁচিয়ে দেয়। সে খুব সাবধানী আর ভীষণ ভীতু। তার সবকিছুতেই ভয়। সবকিছুতেই সাবধানতা। নতুন কোন পরিবেশে তার ভয়, চ্যালেঞ্জে তার ভয়, সিদ্ধান্তে তার ভয়, অনিশ্চয়তায় তার ভয়। সবার আগে তার সমাধান হচ্ছে “হাল ছেড়ে পালাই”। আমরা কিন্তু তাই করি আসলে। অনিশ্চয়তায় বা দ্বিধায় আমরা ভয় পাই। আমরা পিছু হটি। আমরা হেরে যাই। আবার ভয়ের জন্যে আমরা অনেক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচেও যাই। বিপদ দেখলে আমরা নিজেদের বাঁচাই এই ভয়ের জন্যেই।ভয় রাইলির স্বপ্নেও থাকে দুঃস্বপ্ন হয়ে। ভয় থেকে কাপুরুষ, ভীতু, লাজুক হতে পারে মানুষ। আবার ভয় থেকেই সাবধানী, পরিশ্রমী বা দূরদর্শী হয় মানুষের চরিত্র।

মাসুমঃ প্রত্যেকটা ইমোশন আসার সাথে সাথে আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম, আমাদের জীবনে এদের কাজটা কী! ভয় চরিত্রটা আসার পর আমার Doctor Who এর একটা সীনের কথা মনে পড়ছিলো।যেখানে Peter Capaldi (as The Doctor) বলছিলো যে, ভয় জিনিসটা আসলে একটা সুপারপাওয়ারের মত। এটা তোমার রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। ভয় পেলে তুমি আগের চেয়ে জোরে দৌড়াতে পারবে, আগের চেয়ে উঁচুতে লাফ দিতে পারবে। একটা জিনিস খেয়াল করে দেখেছো? ভয়কে অনেক evil মনে করলেও Seven Deadly Sins এর কনসেপ্টের মধ্যে কিন্তু FEAR নেই। যাই হোক -হারাধনের ৫টি ছেলে, রইলো বাকি দুই – well, এক্ষেত্রে একটি ছেলে, আরেকটি মেয়ে – Anger আর Disgust.

আফরিনঃ Inside Out-এরএই আরেকটা বিষয় মনে হল তোমার কথা শুনে। এখানে প্রতিটা চরিত্রের ভাল আর খারাপ দু’টা দিক-ই দেখিয়েছে। ইভিল কনসেপ্ট আসে নি ড্রামাটিক ভাবে। যাহোক, এবার আসি ডিজগাস্টের চরিত্রে। ইনি হচ্ছেন রাইলির ভেতরের ভীষণ সৎ, মাতবর আর সবকিছুতেই নাক গলানো সত্তা। তার ভীষণ নাক উঁচু স্বভাব।  

“When I’m through, Riley will look so good the other kids will look at their own outfits and barf.” – Disgust

আশেপাশের সব মানুষের মধ্যে রাইলিকে সবচেয়ে নিখুঁত ভাবে খুঁজে না পেলে তার খুঁতখুঁতে ভাব যায়না। ডিজগাস্টের থেকে রাইলি সবার মধ্যে কথা বলার শক্তি পায়। লড়াই করে বাঁচার শক্তি পায়। আবার ডিজগাস্টের বাড়াবাড়ির জন্যেই রাইলি কিছুটা হিংসুটে-অহংকারীও হয়। সবকিছুতেই নাক উঁচু থাকে তার। বাকি সব অনুভুতির মতামতেই থাকে দ্বিমত। এই চরিত্রের মধ্যে থাকে ম্যানিপুলেশন। আমরা ঠিক যেমন বিরক্তি থেকে রেগে যাই আর ঝামেলা থেকে বাঁচার খুবকার্যকর আইডিয়া পেয়ে যাই ঠিক তেমনি ইনি মাঝে মাঝে ‘রাগ’-কে রাগিয়ে দিয়ে রাইলিকে বাঁচিয়ে দেয় অনেক ধরনের ভাঙন থেকে।

মাসুমঃ ডিজগাস্ট চরিত্রটাকে শুরু থেকেই বেশ কমপ্লেক্স মনে হয়েছে। অন্য চরিত্রগুলো যেমন সাদাকালো ভাবে নিজেদের চাওয়াগুলো বোঝে, ডিজগাস্ট বোঝে না। সে ঠিক করতে পারে না, আসলে ঠিক কোন কাজটা করলে তার চরিত্র ঠিকমত প্রকাশিত হয়। আমাদের হিউম্যান সোসাইটিও কিন্তু এরকম। যারা ঘৃণাকে উপজীব্যকরে বাঁচে, তারা নিজেদেরকে ঠিকমত চেনে না। আচ্ছা, এবার রাগ, Anger!

আফরিনঃ হু, ঘৃণা মানুষকে অদ্ভুত কালো চশমা পড়ায়! আর ওহ! এংগার হচ্ছে স্যাডনেসের পর আমার প্রিয় চরিত্র।

“Congratulations San Francisco, you’ve ruined pizza! First, the Hawaiians, and now you!”- Anger

এংগার আমাদেরকে দেয় শক্তি। আবার এংগার থেকেই আমরা বড় বড় ভুলগুলো করি। “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন”- ওখান থেকেই আসে। এংগার অধৈর্য, অস্থির আর আক্ষরিক অর্থেই আগ্নেয়গিরি। রেগে গেলে তার মাথা থেকে আগুন-বিস্ফোরন হতে থাকে। তাকে খুব একটা কন্ট্রোল দেয়া হয় না তাই। তবে ইনি সবসময় দেখেন রাইলির সাথে সব ঠিকঠাক হচ্ছে কি না। সংগত কিছু না হলেই রেগে আগুন হয়ে যায় রাগ। রাগ-কে রাগিয়ে দিয়ে ডিজগাস্ট আর ভয় মাঝে মাঝেই নিজেদের কাজ করে নেয়। আমরা যেমন বিরক্তি আর ভয় থেকে রেগে যাই। শক্তি পাই। ঠিক তেমন। আবার রাগের মাথায় আমরা ভুল সিদ্ধান্তগুলো পাই বা ভুল পথেও হাঁটা দেই। তখন আমাদের লজিকের সুইচটা বন্ধ করে দেই। অন্য কোনো অনুভূতিও কাজ করে না যতক্ষণ না ইনার তাণ্ডব না থামে। এমন-ই গুরুত্বপূর্ণ একজন হচ্ছেন এংগার।

মাসুমঃ ৫ জন, যেন হাতের ৫ আঙ্গুল। সবগুলোই লাগে। মিলে তৈরি হয় একটা হাত। ওয়েল, এই ক্ষেত্রে – আমাদের ব্রেইন।

আফরিনঃ হু! এই পাঁচজন মিলে রাইলিকে পথ দেখায় বা মাঝে মাঝে নিজেদের-ই হারিয়ে ফেলে। কিভাবে একটা বাচ্চার ভেতর থেকে সরলতা বা ইনোসেন্স কমতে থাকে। তার ব্যক্তিত্ব বদলায়। কোনো কোনো বিষয় সে অবলীলায়ভুলে যায় যা তার কাছে একসময় বিশাল কিছু ছিলো। আবার কোনো কোনো নতুন বিষয় তার কাছে প্রাধান্য পায়। আবার পেছনে ফিরে মাঝে মাঝে পুরোনো স্মৃতি থেকে শক্তি খুঁজে পায় শৈশব আর কৈশোরের ট্রানজিশনে পড়ে যাওয়া রাইলি।

মাসুমঃ আরো অনেক ধরনের কমপ্লেক্স ইমোশন আছে মানুষের। কিন্তু যেহেতু কাহিনী ১১ বছরের বাচ্চাকে নিয়ে, তাই এই কয়জনই ঠিক আছে।কী বলো? আচ্ছা, এনিমেটেড মুভি যেহেতু, গ্রাফিক্স আর এনিমেশন কেমন লেগেছে? আমার চোখভরে গেছে গ্রাফিক্স দেখে। কী মায়াতৈরি করেছে এরা, তাই না? কালার জিনিসটা সঠিকভাবে ব্যবহার করে অনেক কিছু বুঝিয়েদিয়েছে।

আফরিনঃ হু ডিজনির এনিম্যাশন সাপোর্ট পাওয়াতে ভিজ্যুয়ালি-ও ভীষণ সুন্দর আর নিখুঁত ম্যুভিটা। কালার রিপ্রেজেন্টেশনের ব্যাপারটা ঠিক। উজ্জল-ঝিলমিল হলুদ আনন্দ, গাঢ় নীল দুঃখ, ভুষভুষে বেগুনি ভয়, ঘিনঘিনে সবুজ বিরক্তি আর টকটকে লাল রাগ প্রথমেই ক্যারেকটারগুলোকে গেঁথে দেয় মাথায়। ছোটখাট গ্রাফিক্স ডিটেইলসের কাজ-ও ব্রিলিয়ান্ট!

মাসুমঃ ডিরেক্টর খুবই পাকা মাথার মানুষ। Toy Story, Wall E, Finding Nemo, Monsters’ Inc, Up – এগুলোর রাইটার সে, শেষ দুটোর পরিচালকও। Core Memory আর Personality Island কনসেপ্টগুলো কেমন লেগেছিলো?

আফরিনঃ চরম! একেক ইমোশনের সাথে রাইলির যেসব স্মৃতি হয় সেসব যায় গোল গোল মার্বলে করে বাগাডুলির আইলের মতো কাঁচপাইপে করেজমা হয় মেমরি ব্যাংকে। ছোট্ট একেকটা মেমরি অর্ব বা মার্বলের মধ্যে স্মৃতিগুলো থাকে। আনন্দের, ভয়ের, দুঃখের, বিরক্তির বা রাগের স্মৃতি। মেমরি ব্যাংকের মধ্যে কোর মেমোরি, টেম্পোরারি মেমোরি আর লং টার্ম মেমোরিগুলো থাকে। সেখান থেকে যোগসূত্র ধরে রাইলির ব্যক্তিত্ব গড়তে থাকে কিছু দ্বীপ। ফ্যামিলিআইল্যান্ড, অনেস্টি আইল্যান্ড বা হকি আইল্যান্ড। একজন মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বনগুলো। আমরা তো ওমন একেকটা দ্বীপ আঁকড়েই বেঁচে থাকি।

মাসুমঃ খুব মজা পেয়েছিলাম এই কনসেপ্টটা দেখে – হঠাৎ করে আমাদের মাথায় বিনা কারণেই একটা নির্দিষ্ট গান বেজে ওঠে,কোনো কারণ ছাড়া। এই সিস্টেমিক গ্লিচটা সেরকম ছিলো।

আফরিনঃ

খুব ঠিক! আমাদের কথাই ধরো। নেসক্যাফের “চলো সবাই” বা “অলিম্পিক ব্যাটারী” শুরু হলে থামতোই না! আমার সাবকনশাস রুম, ড্রিম প্রোডাকশন ফ্লোর, বা এবস্ট্রাক্ট জোনগুলাও যেভাবে খুব ইউনিক মেটাফোর দিয়ে দেখিয়েছে এটাও খুব ক্রিয়েটিভ লেগেছে।    

মাসুমঃ হা হা হা, ঠিক। পরিচালক ব্যাটার নাম Pete Docter. নামে Docter হলেও কামে Doctorনাকি? সাবকনশাস, পার্মানেন্ট মেমোরি, ডিলিটেড মেমোরি,ইম্যাজিনেশন ল্যান্ড – কী চমৎকার করে সায়েন্স বুঝিয়ে গেলো! ব্রেইনের প্রত্যেকটা অংশ আর তাদের ফাংশন বুঝিয়ে গেলো!

আফরিনঃ কাহিনী নিয়ে তো আমি বললাম –টেকনিক্যাল দিকগুলো নিয়ে কিছু বলো তুমি এখন।

মাসুমঃ বেশ, সাউন্ডট্র্যাকগুলো আমারকাছে খুব ভালো লেগেছে। মনে হলো – যথোচিত ব্যবহার যাকে বলে; যেখানে যেমন মিউজিকদরকার। পাশাপাশি, এটাও খেয়াল রেখেছে – কোথায় একদমই দরকার নেই। I absolutely loved the screenplay. একটা ফ্রেঞ্চ মুভিদেখেছিলাম। যেখানে এক প্রফেসর তার ছাত্রকে গল্প আর গল্পের বিন্যাস শেখাচ্ছিলো।বলছিলো, নায়ক এই ব্যক্তি, সে অমুক জিনিসটা চায়, কিন্তু মাঝে এই সেই বাধা! নায়ককেএগুলো পেরিয়ে অমুক জিনিসটা হাসিল করতে হবে। এটাই সব গল্পের বিন্যাস, বেসিক্যালি।এটাও ব্যতিক্রম নয়। পার্থক্য হচ্ছে, বাধাগুলোর চরিত্র কেমন, সেটাকে দর্শক নিজের মনে করে অনুভব করতে পারবে কিনা। আর বলতেই হচ্ছে, প্রত্যেকটা বাধা আমাকে হতাশ করেছে, উত্তেজিত করেছে।

একটা জিনিস বিশেষ করে মেনশন করতে চাই – সিনেমার পাশাপাশি সিনেমা হলটাও ছিলো দেখার মত। প্রথমদিকে সবাই হাসাহাসি করছে, হৈ হল্লা করছে। একটা পর্যায়ে গিয়ে পুরো হলের মধ্যে একদম পিন পতন নীরবতা। সিনেমা থেকেও কোনো সাউন্ড আসছে না; দর্শকরাও যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে। অনেককে চোখ মুছতে দেখেছি। থ্রিডি চশমার আড়ালে আমি নিজেও চোখের জ্বালাপোড়া সামলাতে পারিনি। যে সিনেমা এমন একটা মোমেন্ট ক্রিয়েট করতে পারে, তাকে বাহবা দিতেই হয়।

আফরিনঃ ব্যাকগ্রাউন্ডস্কোরের কথা যেটা বললা একদম সেটা আমারো মনে হয়েছে। ঠিক যতোটুক দরকার, যেমন দরকার। ম্যুভিটা বাচ্চাদের জন্যে বানানো কমেডি থ্রিলার হলেও, অনেক অনেক চিন্তার খোরাক থাকে আমাদের মতো দর্শকের জন্যেও। এজন্যেই দিনশেষে ক্রিয়েটিভ মাথাগুলো বাহবা পায় আমাদের থেকে। আমরা সবাই এখানে আমাদের শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পণ দেখি। নিজেদের পেছনে ফেলে আসা সময়টা খাতার মতো খুলে অনেক কিছু মনে করিয়ে দেয়। আমাদের ভেতরের মায়াবী নীল স্যাডনেস হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। হাসি-কান্না-রাগ-বিরক্তি-দুঃখসব-ই লেগেছে ম্যুভিটা দেখে। যে কোনো বয়সের, যে কোনো মানুষের জন্যে হাইলি রেকমেন্ডেড।

মাসুমঃ পুরোপুরি একমত! আমার নেপালি রুমমেটও গিয়েছিলো আমার সাথে সিনেমা দেখতে। এনিমেটেড মুভি জনরাটা নিয়েই তার সমস্যা। আমার চাপাচাপিতেই রাজি হলো। এমনিতেই তার সাথে আমার সিনেমা চয়েস মেলে না। আমি এই পার, তো সে ঐ পার। ১০০টার মধ্যে খুব বেশি হলে ১০/১২টা মেলে। এটা দেখার পর সেও বললো– অসাধারণ হয়েছে। বুঝতে পারলাম, এই মুভি সবারই ভালো লাগবে। It has something for everybody.

আফরিনঃ ঠিক। সবমিলিয়ে অসাধারণ একশো মিনিট; প্রতিটা মিনিট অসাধারণ! কোথাও ফ্লো ছোটেনি। একটুও সুর কেটে যায়নি।

মাসুমঃ এন্ডিং-টার মধ্যে কোনো বাড়াবাড়িনেই, কোনো আরোপিত উত্তেজনা নেই। একদম স্বাভাবিক আবেগপ্রবণ একটা অনুভূতি নিয়ে শেষকরেছে। একদম শেষের দিকে নার্ভগুলো একদম রিল্যাক্সড হয়ে গিয়েছিলো। শান্তি শান্তিভাব! তোমারো কি এমন হয়েছিলো?

সিনেমার একটা দর্শন খুব জরুরি –আনন্দ বা সুখের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু অন্য কোনো আবেগই ফেলনা নয়। সবার কিছু না কিছুভূমিকা আছেই। সেটা শুরুতেই স্পষ্ট করে দেয়। একটা প্রশ্ন তারপরেও মনে আসে – ইস, কতভালো হতো যদি দুঃখ, ঘৃণা, এগুলো না থাকতো! আমার মনে হয়, প্রত্যেকটা দর্শক উত্তরনিয়েই সিনেমা হল থেকে বের হয়েছে। কী বলো?

আফরিনঃ হুম, আমারো মনে হয়েছে স্যাডনেসকে দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে আমরা কেউ আসলে দুঃখের স্বরূপটা বুঝি না। কেউ বোঝে না যে কান্নাও সুখের হয়। কান্নাতেও থাকে স্বস্তি। কেঁদেও মানুষ হালকা হয়ে যায়। ভেতরের মেঘ ঝরিয়ে দিয়ে মানুষকে কান্নাই সুখী করে দেয়। আলোর মাহাত্ম্য যেমন অন্ধকার ছাড়া বোঝা যায় না, তেমনি সুখের অস্তিত্ব-ও দুঃখ ছাড়া অসম্পূর্ণ। স্যাডনেস সবসময় চায় অতীতের সুখস্মৃতিগুলোকে ছুঁয়ে দিতে। সেটাই আমাদের নস্টালজিয়া। আমরা সুখস্মৃতি মনে করি। সুখের মতো ব্যথায় আচ্ছন্ন হই। কারণ, সেই সোনালী অতীত ফিরে আসবে না আর। আরো একটা জায়গায় স্যাডনেস সবার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে আমার কাছে। আমরা খুশিতে, রাগে-দুঃখে,বিরক্তি বা ভয়ে কেঁদে ফেলি। স্যাডনেসছাড়া কোনো ইমোশন-ই যেন সম্পূর্ণ না। দিনশেষে আমাদের সবকিছুর মধ্যে একটু-আধটু কষ্ট-হতাশা মিলেমিশে থাকে। তাই জয়ের এঁকে দেয়া ছোট্ট গণ্ডিতে আঁটকে থাকতে পারে না স্যাডনেস। প্রতিবার-ই সে ছুঁয়ে দেয় বাকিসবগুলো অনুভূতিগুলোকে।

আর শেষটায় খুব রিলিভড লাগে এটা তোমার সাথে একমত আমি। আমার মনে হয়েছে পুরো ম্যুভিতেআমরা রাইলির ভেতরের অস্থিরতা বা ছুটে বেড়ানোটা টের পেয়েছি। শেষমেষ ফ্যামিলি-ই মানুষকে দিতে পারে নির্ভরতা। সব সুখ, শান্তি বা নিশ্চয়তা আমরা বাবা-মার কোলে গিয়েই পেয়ে যাই যেটা আমাদের পৃথিবীর সব কষ্ট বা অস্থিরতা থেকে বাঁচিয়ে দেয়।

মাসুমঃ কী মনে হয় – এনিমেটেড মুভি হিসেবে অস্কার পাবে? [Update from the future – পেয়েছিলো]

আফরিনঃ আমি আসলে একাডেমি নিয়ে ভাবি নি। আগেও অনেকবার হতাশ হয়েছি। আর এ বছর এনিমেটেড অনেকগুলো মুভি [Minions, Zooopia etc.] রিলিজ পাচ্ছে। সব না দেখে ডিসিশন দিতে পারছিনা। তবে এই মুহূর্তে এটা আমার অনেক অনেক প্রিয় একটা মুভি।

মাসুমঃ হু। কিন্তু আমার গত বছরের প্রেডিকশন মিলে গিয়েছিলো – Big Hero 6. এ বছর শেষ হতে অবশ্য এখনো আরো ৬ মাস বাকি। তবু এরকম আরেকটা মুভি আসতে খবর আছে!

আফরিনঃ Big Hero 6 যে কী ভাল লেগেছিল! আর এটা আমারো মনে হচ্ছে যে বাকিগুলার এই লেভেলে যাওয়াটা খুব কঠিন। পারফেকশনের দিক থেকে এটা খুব বেশি ভাল।

মাসুমঃ সবশেষে সবার উদ্দেশ্যে বলি – এই সিনেমা দেখা না থাকলে সাথে সাথে দেখতে বসে যেতে হবে, এমন মুভি। বেশির ওপর বেশি জোস!

আফরিনঃ আমার সবশেষ কথা– আমাদের ভেতরের সবগুলো অনুভূতি চিনে গেছি। এখন রেগে গেলে বুঝি অকাজটা কার। কাঁদলে দেখি স্যাডনেসের ভীষণ মায়াবী মুখ। ডিজনী আর পিক্সারকে আন্তরিক ধন্যবাদ নিজেকে এতো সুন্দর ভাবে,নতুন ভাবে চিনিয়ে দেয়ার জন্যে! হ্যাপি ম্যুভি টাইম!

মাসুমঃ সবাইকে ধন্যবাদ!

Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *