রাইফেলের বাঁটকে গদার মত ধরে ব্যবহার করছে টেক্সিয়ানরা

আলামো যুদ্ধের গল্প, টেক্সাস বিদ্রোহের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

টেক্সাসের স্যান এন্টনিওতে গিয়েছিলাম একটা কনফারেন্সে যোগ দেয়ার জন্য। কোথাও যাওয়ার আগে সেখানে কী কী দেখার আছে, তা একটু গুগল করে নেই সাধারণত। মানে রথ দেখবো, কলা বেচবো না? দেখলাম, ওখানকার দুটো জিনিস নিয়ে বেশ হৈচৈ হয়। এক, River Walk, সরু একটা নদীর শান বাঁধানো ধার ধরে হাঁটা যায় অনেকক্ষণ। মাঝে একটা জায়গাতে প্রচুর বাহারি রেস্টুরেন্ট আছে, শপিং এর ব্যবস্থা আছে।

এই জায়গাটা স্যান এন্টনিওর প্রাণকেন্দ্র। আর দুই, খুব কাছেই একটা মিউজিয়াম আছে, যেখানে ১৮৩৬ সালে একটা ব্যাপক যুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো – Battle of the Alamo. আর সেটা শুরু হয়েছিলো ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখ।

আলামোর যুদ্ধ

শুরুর আগে কিছু শব্দ আর ঘটনা পরিষ্কার করে নেয়া ভালো। সবাই জানেন যে টেক্সাস তো যুক্তরাষ্ট্রেরই অংশ, ৫০টা স্টেটের মধ্যে একটা স্টেট। কিন্তু সবসময় টেক্সাস আমেরিকার অংশ ছিলো না। আগে স্প্যানিশরা সেখানে রাজত্ব করতো। আর মেক্সিকোর স্বাধীনতার যুদ্ধের পর টেক্সাস মেক্সিকোর অংশ হয়ে গিয়েছিলো।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৎকালীন মেক্সিকো শাসিত টেক্সাসে যারা এসে থেকে যেতো, সেই অধিবাসীদেরকে Anglo বা Texian বলতো। ওরা ঐ অঙ্গরাজ্যে গিয়ে বসবাস শুরু করেছিলো, কারণ মেক্সিকোর ১৮২৪ এর সংবিধানে অঙ্গরাজ্যগুলোর বেশ বেশ সুযোগ-সুবিধা ছিলো। আর মেক্সিকোতে জন্মগ্রহণ করা টেক্সানদেরকে Tejano/তেহানো বলতো। সুযোগ-সুবিধার পরিমাণ এতোই ভালো ছিলো যে অ্যাংলোরা দলে দলে আমেরিকা থেকে টেক্সাসে চলে আসছিলো। আসার হার এতোই বেশি ছিলো যে, একসময় টেক্সিয়ানদের সংখ্যা তেহানোদের চেয়েও বেড়ে গিয়েছিলো।

১৮৩০ সালে মেক্সিকো সরকার এটা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Bustamante ঘোষণা করে যে, আর কোনো অ্যাংলো টেক্সাসে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে না। অ্যাংলোরা পাত্তা দেয়নি। ১৮৩৪ আসতে আসতে দেখা গেলো যে টেক্সাস এলাকায় তেহানোদের চেয়ে অ্যাংলোর সংখ্যা প্রায় ৪ গুণ হয়ে গেছে।

১৮৩২ সালে মেক্সিকোর আর্মি জেনারেল সান্তা অ্যানা বাস্তামান্তেকে উৎখাত করে নিজে ক্ষমতা দখল করেন, এবং এই সুযোগে অ্যাংলোরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। পূর্ব টেক্সাস থেকে সকল তেহানোদেরকে বরখাস্ত করে দেয়। অ্যাংলোরা দুটো রাজনৈতিক সভা ডেকে মেক্সিকান সরকারকে বলে – ১৮৩০ সালের সেই নিষেধ তুলে নিতে। তাদের অনেক দাবিদাওয়াই সান্তা অ্যানার সরকার মেনে নেয়। কিন্তু খুব দ্রুতই সে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে শুরু করে, ১৮২৪ সালের সংবিধানকে বাতিল করে দেয়। অঙ্গরাজ্যকে ক্ষমতা না দিয়ে সামরিক এবং স্বৈরাচারী কায়দায় চালাতে শুরু করে। টেক্সাসে বিদ্রোহ শুরু হয়ে যায়। তখনো বিদ্রোহীরা ঠিক করেনি যে ওরা স্বাধীনতা চায়, নাকি ১৮২৪ এর সংবিধানে ফিরে যেতে চায়।

সান্তা অ্যানা

১৮৩৫ সালের সেপ্টেম্বরে, সান্তা অ্যানা তার শ্যালককে ৫০০ যোদ্ধা দিয়ে চলমান বিদ্রোহ দমন করতে পাঠায়। একে তো ঐ এলাকায় টেক্সিয়ান বেশি, তার ওপর আমেরিকা থেকে অনেক ভলান্টিয়ারও তাদেরকে সহায়তা করেছিলো। তাই অক্টোবরে মেক্সিকান আর টেক্সিয়ানদের যুদ্ধ শুরু হলে, ছোটোখাটো এই যুদ্ধগুলোতে টেক্সিয়ানরা বিজয় পায়। ডিসেম্বরের ৯ তারিখে, ঐ এলাকার শেষ মেক্সিকান বাহিনী হিসেবে প্রেসিডেন্টের শ্যালকও আত্মসমর্পণ করে। যুদ্ধের পর অনেক আমেরিকান নিজেদের দেশে ফিরে যায়। এবং এরপর ক্রোধে উন্মত্ত মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট সান্তা অ্যানা রয়ে যাওয়া আমেরিকানদেরকে পাইরেট হিসেবে আখ্যা দেয়, এবং পরবর্তী লড়াইগুলোতে কোনো কয়েদী গ্রহণ না করে সব পাইরেটদেরকে বন্দী করার পর হত্যা করে।

মেক্সিকান সৈন্যরা স্যান এন্টনিও (তখনকার নাম সান আন্তোনিও দে বেহার, এখন থেকে এটাকে বেহার বলবো। সেখান) থেকে চলে যাওয়ার পরে সেখানে টেক্সিয়ানরা একটা ধর্মীয় ভবনকে দূর্গ হিসেবে গড়ে তোলে। সেটাই Alamo mission. আর এই জায়গাতেই ঘটবে টেক্সিয়ানদের সাথে মেক্সিকানদের আলামো’র যুদ্ধ।

অবরুদ্ধ আলামো, ফেব্রুয়ারি ২৩, ১৮৩৬

এই দূর্গটা ততটা শক্তিশালী ছিলো না। এটা প্রধানত আশেপাশের ছোটোখাটো দলের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য ব্যবহৃত হতো। সামনে দুটো কামান ছিলো, একটা ছোটো, একটা বড় ১৮ পাউন্ডার। তবে এটুকু যথেষ্ট না। মেক্সিকান সরকারের পূর্ণ শক্তির সাথে পেরে ওঠার মত শক্তি এই দূর্গের ছিলো না। এটা টেক্সিয়ানরা জানতো। ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখে, আলামো’র ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল জেমস নীল আরো সৈন্য, আরো সরঞ্জাম যোগাড়ের জন্য আলামো ছেড়ে গেলেন। নতুন কমান্ডার নিয়ে ঝামেলা তৈরি হলো। অনেক প্রশিক্ষণহীন সৈন্য নিয়ে আলামো’র যখন দুর্দশা, তখন জেনারেল সান্তা অ্যানা সৈন্য একত্র করছিলেন সান লুই পোতোসি-তে। ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে, প্রায় ৬০০০ এর কিছু বেশি সৈন্য নিয়ে তিনি পৌঁছুলেন বেহার থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের মেদিনা নদীর তীরে। অবশ্য তাদের অবস্থাও বেশ বেহাল ছিলো – খাবারের অভাবে, অত্যন্ত ঠাণ্ডা এবং তুষারাবৃত বাজে আবহাওয়ার কারণে।

তবু, সংখ্যাটা অনেক। ২৩ তারিখ সকাল থেকেই বেহারের লোকজন পালাতে আরম্ভ করলো মেক্সিকান সৈন্যের ভয়ে। অনেকে আলামো’তে ঢুকে গেলো প্রাণ রক্ষায়। পুরো ৬০০০ মেক্সিকান সৈন্য বেহারে আসেনি, ১৫০০ এসেই বেহার দখল করেছিলো। ওদের একটা অংশ (২৫০ এর মত) আলামো’র দেয়ালের চারপাশে ঘাঁটি গাড়লো, শুরু হলো অবরোধ। আলামো’র কমান্ডার ট্র্যাভিস আর বাওয়ি নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে একত্রে দূর্গের কামান থেকে গোলা ছুঁড়লো।

প্রথম দশ দিন

যুদ্ধটা তেমন বেশি ভয়াবহ ছিলো না প্রথমদিকে, অবরোধটাই মুখ্য ছিলো। আরো কিছু সৈন্য এসে যোগ দিয়েছিলো মেক্সিকানদের দলে। যুদ্ধ চলছিলো বিরতি দিয়ে দিয়ে। মার্চের ১ তারিখ পর্যন্ত মেক্সিকানদের ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিলো, আর ৪ জন আহত হয়েছিলো। ওদিকে দূর্গের নিরাপত্তায় থাকা টেক্সিয়ানদের মাত্র ১ জন মারা গিয়েছিলো।

মার্চের ৩ তারিখ, দূর্গের বাইরে অবস্থানরত মেক্সিকান সৈন্যদের সাথে যোগ দিলো আরো ১০০০ সৈন্য। আর সাথে এলো এক সপ্তাহ আগে মেক্সিকানদের একটা বিজয়ের খবর। এক সপ্তাহ আগে সান প্যাত্রিসিও এর যুদ্ধে টেক্সিয়ানদের পরাজয় আর নতুন বাহিনীর আগমনে উৎসবে মেতে উঠলো সান্তা অ্যানার সৈন্যরা।

মার্চের ৪ তারিখ, সান্তা অ্যানা প্রস্তাব দিলেন – এবার তাহলে আক্রমণ শুরু হোক। তার উপদেষ্টারা বলতে চাইছিলেন যাতে মার্চের ৭ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়, সেদিন দুটো বড় কামান এসে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু কেন সান্তা অ্যানা রাজি হননি, সেটা নিয়ে একটা গল্প আছে। টেক্সিয়ানদের তরফ থেকে নাকি আত্মসমর্পণের একটা প্রস্তাব এসেছিলো। কিন্তু সান্তা অ্যানা ভেবেছিলেন রক্তপাত ছাড়াই যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে সে যুদ্ধের কোনো মহিমা নেই। তাই তিনি অধৈর্য হয়ে ৬ তারিখ সকালে, ২০০০ এর অধিক সৈন্যের পূর্ণশক্তি নিয়ে আলামো’র দূর্গে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন।

মার্চের ৬ তারিখ

রাত ১২টার কিছুক্ষণ পরে, ১৮০০ সৈন্যকে চার ভাগে ভাগ করে অবস্থান বুঝিয়ে দেয়া হলো। ৫০০ জনকে শুধু এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো যাতে কেউ পালাতে না পারে, তা সে টেক্সিয়ান বা মেক্সিকান যেই হোক না কেন। সান্তা অ্যানা নিজে অতিরিক্ত ৪০০ সৈন্য নিয়ে নিরাপদে বসে রইলেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর কুয়াশার মধ্যে, ধীরে ধীরে দূর্গের দিকে বাড়তে লাগলো মেক্সিকান সৈন্যরা। দূর্গের বাইরে যে ৩ জন টেক্সিয়ানের পোস্ট ছিলো, তাদেরকে ঘুমের মধ্যেই মেরে ফেলা হলো। কোনো এলার্ম বাজেনি, চুপে চুপে এতো কাছে চলে আসলো মেক্সিকানরা যে এবার মাস্কেট রাইফেল ব্যবহার করা যাবে। তখন তারা “সান্তা অ্যানার জয়” বলে চেঁচিয়ে উঠলো। টেক্সিয়ানদেরকে সাহস যোগালেন কমান্ডার ট্র্যাভিস, বললেন, “চলো, মেক্সিকানদেরকে জাহান্নাম দেখাবো”।

তেমন গোলাবারুদ না থাকায়, টেক্সিয়ানরা যে ধাতুই হাতের কাছে পাচ্ছিলো, সেটাই ঢুকিয়ে দিচ্ছিলো ১৮ পাউন্ড কামানের ভেতরে। সেগুলোর মধ্যে ঘোড়ার নাল, পেরেক, দরজার হাতল সবই ছিলো। টেক্সিয়ানরা যে সুবিধাটা পাচ্ছিলো, তা হলো মেক্সিকানদের সৈন্যের ঘনত্ব। ওরা যাই মারছিলো, অন্য পক্ষের কেউ না কেউ আহত বা নিহত হচ্ছিলো। অত্যন্ত কম সংখ্যক সৈন্য নিয়েও বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলো টেক্সিয়ানরা। কিন্তু, সংখ্যা কথা বলে।

দেয়ালে লাগানো পোস্টার থেকে তোলা ছবি

দেয়ালের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার পরে, যখন টেক্সিয়ানদেরকে গুলি ছোঁড়ার জন্য দেয়ালের ওপর থেকে নিচের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছিলো, এবং নিজেরাও গুলির নিশানায় পরিণত হচ্ছিলো। ধাক্কাটা জোরদার হলো, যখন কমান্ডার ট্র্যাভিস মারা গেলেন। মেক্সিকানরা মই এনেছিলো দেয়াল বেয়ে ভেতরে ঢোকার জন্য। অবশ্য প্রথমদিকে যে কয়জন উঠলো, সবাই কচুকাটা হলো, গুলি খেলো। তবে, পরিস্থিতি পাল্টাবে।

এখন যারা গেইম খেলেন, তারা জানেন বন্দুক রিলোড করতে হয়। এবং ঐ সময় শত্রুর গুলিও খেতে হয়। আর আমরা কথা বলছি সেই ১৮৩৬ সালের, যখন রিলোড করতে হতো একটা একটা করে, জান বের হয়ে যেতো। এদিকে টেক্সিয়ানরা রিলোড করছে, আর ওদিকে মেক্সিকানরা মই বেয়ে আসছে তো আসছেই। এর মধ্যে আবার এক মেক্সিকান জেনারেল হুয়ান আমাদোর (Juan Amador) দূর্গের একটা গেইট খুলে ফেললেন, আর মেক্সিকানরা দলে দলে ভেতরে ঢুকে পড়লো। তখন আগের পরিকল্পনা মোতাবেক টেক্সিয়ানরা ব্যারাক আর চ্যাপেলে ঢুকে পড়লো। ঢুকে পড়ার আগে নিজেদের দখলে থাকা কামানটাকে নষ্ট করতে হয় ভুলে গেছে, নয়তো সময় পায়নি।

ব্যারাকের গায়ে রাইফেলের নল বের করার মত ছিদ্র করা হয়েছিলো। সেখান থেকেই ওরা গুলি ছুঁড়তে লাগলো। যারা পালাতে চাইছিলো, তারা সকলেই মেক্সিকানদের হাতে মারা পড়লো। শেষ পর্যন্ত ডেভি ক্রকেট আর তার সৈন্যরাই বাকি ছিলো, ভেতরের প্রাচীর রক্ষা করার কাজে। রিলোড করার মত আর গুলি ছিলো না তাদের কাছে। এরপরেও তারা আত্মসমর্পণ করলো না। রাইফেলের বাঁটকে গদা হিসেবে ব্যবহার করতে লাগলো ওরা, আর সাথে রইলো ছুরি। এই পর্যায়ে বহিঃপ্রাচীর আর ভেতরের বলতে গেলে প্রায় পুরোটাই মেক্সিকানদের দখলে। শুধু ব্যারাক রুমগুলো বাকি টেক্সিয়ানদের দখলে। আর এই ব্যারাক রুমগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা বেশ ভালোই ছিলো।

রাইফেলের বাঁটকে গদার মত ধরে ব্যবহার করছে টেক্সিয়ানরা

কিন্তু এবার ওরা আগের ভুলটার মাশুল দিলো। ওদের রেখে আসা ১৮ পাউন্ডার কামানটা এখন মেক্সিকানদের দখলে, আর সেটার মুখ ওরা ঘুরিয়ে দিলো ব্যারাকের দিকেই, উড়িয়ে দিলো ব্যারাকের দরজা। খোলা দরজার ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়লো মেক্সিকানরা, এরপর ঢুকে পড়ে শুরু করলো হাতে হাতে যুদ্ধ।

কামানটা একসময় আমার পেছনেই ছিলো

কমান্ডার বাওয়ি কিভাবে মারা গেলেন, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ বলে, মেক্সিকানরা ওনাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়েছে। কেউ দাবি করে, নিজেকে নিজেই গুলি করেছেন বা ছুরি মেরেছেন, এবং এই দাবিটাই নাকি সবচেয়ে সঠিক। রবার্ট ইভান্স নামে আরেক টেক্সিয়ানের মৃত্যুও গুরুত্বপূর্ণ। তার ওপর দায়িত্ব ছিলো যাতে গানপাউডারগুলো মেক্সিকানদের হাতে না যায়। সে যখন আহত এবং বুঝে ফেলেছে যে তার মৃত্যু আসন্ন, তখন সে হাতে একটা মশাল নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগোতে লাগলো বারুদের মজুতের দিকে। সে যদি বারুদে আগুন ধরিয়ে দিতে পারতো, তাহলে গোটা চ্যাপেলটাই ভেঙে পড়তো, আর চ্যাপেলের ভেতরের কক্ষে (যেখানে সাধারণত পাদ্রীরা নিজেদের বক্তৃতা চর্চা করেন বা অন্যান্য সরঞ্জাম রাখা হয়, সেখানে) আশ্রয় নেয়া মহিলা আর বাচ্চারাও মারা পড়তো। সে গড়াতে গড়াতে বারুদের কাছে প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিলো, এমন সময় গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

আলামো যুদ্ধের ফলাফল ও পরবর্তী ঘটনার সারসংক্ষেপ

আলামো যুদ্ধের ফলাফল – টেক্সিয়ানরা পরাজিত, মেক্সিকানরা বিজয়ী।

এর পর স্যাম হিউস্টনের নেতৃত্বে একটা টেক্সিয়ান বাহিনী গঠন করা হলো। তাদেরকে ট্রেনিং দেয়া হলো। ততদিনে সান্তা অ্যানা খুবই আত্মবিশ্বাসী, নিজের সৈন্যদেরকে তিনি আরো ছোটো করে এদিক ওদিক পাঠিয়ে দিয়েছেন। এপ্রিলের ২১ তারিখ সেটারই মাশুল দিলেন তিনি। স্যান ইয়াসিনটো (San Jacinto) এর যুদ্ধে তার বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ করলো হিউস্টনের বাহিনী। অনেক মেক্সিকানের প্রাণ গেলো, সান্তা অ্যানাকে গ্রেফতার করা হলো। প্রাণ ছাড় দেয়া হলো, এই শর্তে যে তিনি সকল মেক্সিকান বাহিনীকে টেক্সাস থেকে সরিয়ে নেবেন। তৈরি হলো রিপাবলিক অফ টেক্সাস, যেটাকে মেক্সিকো সমর্থন দেয়নি। ১৮৪৫ সালে এসে টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হলো। এজন্য কাহিনী মোড় নিয়েছিলো মেক্সিকো-আমেরিকা যুদ্ধের দিকে। সেই কাহিনী আরেকদিন।

Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *